সোশ্যাল মিডিয়ার এই যুগে মেটার মেসেঞ্জার আমাদের দৈনন্দিন যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। তবে অনেক সময় অনাকাঙ্ক্ষিত বা বারবার আসা অডিও-ভিডিও কল আমাদের কাজের বা বিশ্রামের চরম ব্যাঘাত ঘটায়। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই বিরক্ত হয়ে অপর প্রান্তের মানুষকে সরাসরি ব্লক করে দেন। কিন্তু সম্পর্ক নষ্ট না করে বা কাউকে ব্লক না করে মেসেঞ্জার কল বন্ধ করার কোনো উপায় কি আছে? অবশ্যই আছে। মেসেঞ্জারের কিছু চমৎকার ইন-বিল্ট ফিচারের মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই যেকোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির কল বা নোটিফিকেশন সাময়িকভাবে বা স্থায়ীভাবে বন্ধ করে রাখতে পারেন, যার ফলে তিনি জানতেও পারবেন না যে আপনি তার কল এড়াচ্ছেন।
যখন আপনি মেসেঞ্জারে কাউকে ব্লক করেন, তখন তিনি সরাসরি বুঝতে পারেন যে আপনি তাকে ব্লক করেছেন। এর ফলে পারস্পরিক সামাজিক বা পেশাদার সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। কিন্তু ব্লক না করে মেসেঞ্জার কল বন্ধ রাখলে অপরপক্ষ ভাববে আপনি হয়তো ব্যস্ত আছেন বা ফোনের আশেপাশে নেই। এটি আপনার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মানসিক শান্তি বজায় রাখার পাশাপাশি সামাজিক সম্পর্কগুলোকেও সুন্দর ও স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।
মেসেঞ্জারে মূলত দুটি প্রধান উপায়ে কোনো ব্যক্তির কল রিং হওয়া বন্ধ করা যায়। নিচে এগুলোর বিস্তারিত কার্যপ্রণালী দেওয়া হলো:
মেসেঞ্জারে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নোটিফিকেশন বা কল রিং হওয়া বন্ধ করার সবচেয়ে সহজ এবং জনপ্রিয় মাধ্যম হলো চ্যাট মিউট করা। এতে তিনি কল বা মেসেজ দিলে আপনার ফোনে কোনো রিংটোন বাজবে না এবং স্ক্রিনে কোনো পপ-আপ ভেসে উঠবে না।
আপনি যদি চান সেই ব্যক্তির কল বা মেসেজ আপনার মূল চ্যাট লিস্টেই দেখাবে না এবং তিনি অনলাইনে আছেন কি না তাও জানতে পারবেন না, তবে 'Restrict' ফিচারটি আপনার জন্য সেরা সমাধান।
রেস্ট্রিক্ট ফিচারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, অপর পক্ষ কোনোভাবেই বুঝতেই পারবে না যে আপনি তাকে রেস্ট্রিক্ট করেছেন এবং তিনি স্বাভাবিকভাবেই মেসেজ বা কল দিতে পারবেন, যা আপনার কাছে সাইলেন্ট থাকবে।
অনেক সময় মেসেঞ্জারে আপনাকে অনলাইন বা অ্যাক্টিভ দেখে পরিচিতরা কল দেওয়ার সুযোগ পায়। আপনি যদি মেসেঞ্জারে নিজের অ্যাক্টিভ স্ট্যাটাস বা 'সবুজ বাতি' বন্ধ করে রাখেন, তবে অনেকেই ভাববে আপনি অফলাইনে আছেন। এর ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত কলের সংখ্যা অনেকটাই কমে যায়। মেসেঞ্জারের প্রোফাইল সেটিংস থেকে 'Active Status' অপশনে গিয়ে এটি সহজেই নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব।
ভার্চুয়াল জীবনে নিজের মানসিক শান্তি বজায় রাখতে মাঝে মাঝে এমন চতুর কৌশলের প্রয়োজন হয়। কাউকে সামাজিক বা মানসিকভাবে আঘাত না দিয়ে নিজের প্রাইভেসি রক্ষা করাই বুদ্ধিমানের কাজ। আশা করি, উপরে বর্ণিত সহজ ধাপগুলো অনুসরণ করে আপনি ব্লক না করে মেসেঞ্জার কল বন্ধ করার কৌশলটি সফলভাবে প্রয়োগ করতে পারবেন এবং ঝামেলামুক্ত অনলাইন জীবন উপভোগ করবেন।
মেসেঞ্জারের এই ট্রিকসগুলো কি আপনার দৈনন্দিন জীবনে কাজে এসেছে? অনাকাঙ্ক্ষিত কল এড়াতে আপনি সাধারণত কোন পদ্ধতিটি বেশি পছন্দ করেন? নিচে কমেন্ট করে আমাদের সাথে আপনার মতামত শেয়ার করুন!









